জাতীয়

জনগণ-পুলিশের সম্পর্ক আস্থার হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে

জনগণ-পুলিশের সম্পর্ক আস্থার হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনে করেন, পুলিশ জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুললে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশে আইন-শ...

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনে করেন, পুলিশ জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুললে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন। একারণে পুলিশের জন্য জনগণের আস্থা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউস দিবসের মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে পুলিশি কার্যক্রমে জনগণকে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত। আমি বিশ্বাস করি, পুলিশ জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুললে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। নিউজ বিডি নিউজ। পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ কল্যাণ প্যারেডে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আজ সকাল ৯টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশের বর্ণাঢ্য প্যারেড পরিদর্শন করে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে কল্যাণ প্যারেডে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনে করেন, পুলিশ জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুললে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন। একারণে পুলিশের জন্য জনগণের আস্থা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউস ডে-র মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে পুলিশি কার্যক্রমে জনগণকে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক। আমি বিশ্বাস করি, পুলিশ জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুললে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে। নিউজ বিডি নিউজ। পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ কল্যাণ প্যারেডে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সকাল ৯টায় তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশের বর্ণাঢ্য প্যারেড পরিদর্শন করে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে কল্যাণ প্যারেডে আসেন। পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়: পুলিশ বাহিনী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট, পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, পুলিশ প্রশাসন বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। বাহিনীর দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা অবশ্যই আপনাদের দায়িত্ব। ফ্যাসিবাদ যেন ফিরে না আসে: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আপনারা সারাদেশে যথাযথভাবে আপনাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই। এটি প্রমাণ করেছে যে, পুলিশের পক্ষে নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করা অবশ্যই সম্ভব। তবে, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের মানুষ একটি ভিন্ন চিত্রও দেখেছিল। এই পুলিশ সপ্তাহে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার, যাতে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসন আর কখনো ফিরে না আসে। জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক হবে আইনসম্মত ও মানবিক: প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাজ হলো অশুভকে দমন করা এবং শুভকে লালন করা। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হবে আইনসম্মত ও মানবিক। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতার হওয়া উচিত। আমি আপনাদের কাছে শুধু এটুকুই চাই যে, জনগণ যেকোনো বিপদ বা দুর্যোগে থানাকে তাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। পুলিশের সাফল্যই সরকারের সাফল্য: প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা মাঠ পর্যায়ে সরকারের রাষ্ট্রদূত। আপনাদের দক্ষ ও তাৎক্ষণিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আপনারা শুধু আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যই নন; আপনারা রাষ্ট্রে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচার প্রদানের প্রথম দ্বাররক্ষী। সুতরাং, পুলিশ যদি নাগরিক হিসেবে জনগণের জন্য আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, আমি মনে করি সেটাই পুলিশের সাফল্য। পুলিশের সাফল্য মানেই সরকারের সাফল্য। তিনি বলেন, আমি মনে করি, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক সরবরাহকারী ও মাদকের উৎসগুলোকে লক্ষ্য করে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রম চালানো গুরুত্বপূর্ণ। মাদক, সন্ত্রাসবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা এগুলোর বিষয়ে কোনো আপোস করতে চাই না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসঙ্গে: প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই জানি যে বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। এই বিশ্বগ্রাম ব্যবস্থা একদিকে যেমন মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন এনেছে, অন্যদিকে তেমনি অপরাধের ধরণও বদলে গেছে। তাই, বাংলাদেশ পুলিশকে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন একটি আধুনিক, দক্ষ ও যুগোপযোগী বাহিনীতে রূপান্তরিত করতে অপরাধ বিশ্লেষণ সক্ষমতা জোরদার করা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বৈজ্ঞানিক তদন্ত পদ্ধতির ব্যাপক প্রয়োগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডেটা বিশ্লেষণসহ উদীয়মান প্রযুক্তির সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবহার আরও প্রসারিত করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তি-ভিত্তিক পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই লক্ষ্যে, সরকার সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল ও ফরেনসিক সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাসহ এই বিষয়গুলোকে আরও কার্যকর করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চান: প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, সরকার দেশে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চায়। তিনি বলেন, অপহরণ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশের দাবি প্রসঙ্গে: তারেক রহমান বলেন যে, এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের পুলিশ বাহিনীকে আরও দক্ষ ও আধুনিক করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে, পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সরকার তাদের আবাসন সংকট সমাধান, মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা এবং রেশন ও ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করছে। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।