# ঈদযাত্রা: ঘরমুখো মানুষের ঢল, স্বস্তি ও শঙ্কার মাঝেই পথচলা রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন আর লঞ্চঘাটগুলো যেন পরিণত হয়েছে এক...
# ঈদযাত্রা: ঘরমুখো মানুষের ঢল, স্বস্তি ও শঙ্কার মাঝেই পথচলা রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন আর লঞ্চঘাটগুলো যেন পরিণত হয়েছে এক আবেগঘন জনসমুদ্রে। কারও হাতে ছোট ব্যাগ, কারও কাঁধে ভারী লাগেজ, আবার কেউ শিশু সন্তানকে বুকে নিয়ে ছুটছেন গ্রামের পথে। বছরের অন্য সময়গুলোতে কর্মব্যস্ত রাজধানী যতটা কঠিন ও যান্ত্রিক মনে হয়, ঈদের আগে ঠিক ততটাই আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে। ঈদকে ঘিরে এই ঘরে ফেরার গল্প শুধু ভ্রমণের নয়; এটি পরিবার, শেকড় আর ভালোবাসার গল্পও। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদযাত্রা স্বস্তি ও শঙ্কা—দুই অনুভূতির মাঝেই এগোচ্ছে। ## রাজধানী ছাড়ছে লাখো মানুষ রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গত কয়েকদিন ধরেই ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঈদ উপলক্ষে এবারও প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারেন। ([The Financial Express][1]) রেলস্টেশনগুলোতে দেখা গেছে দীর্ঘ অপেক্ষা, তবে আগের তুলনায় ট্রেনের সময়সূচি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। অনেক যাত্রী বলছেন, অনলাইন টিকিট ব্যবস্থা কিছুটা স্বস্তি দিলেও শেষ মুহূর্তে টিকিট পাওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। মহাখালী বাস টার্মিনালে কথা হয় সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী রবিউলের সঙ্গে। তিনি বলেন, “সারাবছর পরিবার থেকে দূরে থাকি। ঈদের সময়টুকু শুধু বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটানোর জন্যই এই কষ্টের যাত্রা।” ## মহাসড়কে বাড়ছে চাপ ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ইতোমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও যমুনা সেতু সংলগ্ন এলাকায় ধীরগতির যান চলাচলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, এবারের ঈদযাত্রায় ২০৭টি যানজটপ্রবণ পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। ([Prothomalo][2]) যাত্রীদের অভিযোগ, মহাসড়কে উন্নয়নকাজ, অবৈধ পার্কিং এবং অতিরিক্ত যানবাহনের কারণেই ভোগান্তি বাড়ে। যদিও প্রশাসনের দাবি, আগের চেয়ে এবার প্রস্তুতি ভালো। ## ট্রেন এখনো সবচেয়ে ভরসার বাসের তুলনায় ট্রেনে যাত্রীচাপ বেশি হলেও অনেকে এখনো রেলপথকেই সবচেয়ে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক মনে করছেন। কমলাপুর স্টেশনে দেখা গেছে, পরিবার নিয়ে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন শুধুমাত্র নির্ধারিত ট্রেনে ওঠার জন্য। ([The Financial Express][1]) রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত কোচ ও বিশেষ ট্রেন চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় সক্ষমতা এখনো অনেক কম। ## লঞ্চঘাটে ভিন্ন চিত্র একসময় ঈদ মানেই সদরঘাটে উপচে পড়া ভিড় ছিল পরিচিত দৃশ্য। তবে পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের অনেক যাত্রী এখন সড়কপথ বেছে নিচ্ছেন। ফলে আগের তুলনায় লঞ্চে চাপ কিছুটা কমেছে। তবুও ভোলা ও চাঁদপুর রুটে এখনো যাত্রীচাপ বেশি। ([The Business Standard][3]) ## নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ঈদযাত্রাকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ, র্যাব ও হাইওয়ে পুলিশকে মাঠে নামানো হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ছিনতাই ও ছাদে যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। ([BSS][4]) তবুও অনেক যাত্রী অভিযোগ করছেন, কিছু পরিবহন এখনো নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিচ্ছে। বিশেষ করে শেষ মুহূর্তের টিকিটে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। ## ঈদযাত্রা শুধু ভোগান্তি নয়, আবেগও সব কষ্ট, যানজট আর দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মানুষের মুখে এক ধরনের প্রশান্তি দেখা যায়। কারণ এই যাত্রার শেষ প্রান্তে থাকে প্রিয়জনের মুখ, গ্রামের বাড়ির উঠান আর ঈদের সকাল। ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী এক যাত্রী বলছিলেন, “রাস্তার কষ্ট ভুলে যাই যখন মনে হয় মা দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে।” প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদযাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—বাংলাদেশের মানুষের কাছে ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি নাড়ির টানেও ফেরার সময়।