জাতীয়

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা নৃশংসতায় স্তব্ধ রাজধানী, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা নৃশংসতায় স্তব্ধ রাজধানী, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছ...

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নির্মম এ ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে তার স্ত্রীকেও। ঘটনাটি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও নিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। রামিসা পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনে বসবাস করত এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। একপর্যায়ে রামিসাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পাশের ফ্ল্যাটের সামনে তার একটি জুতা দেখতে পান মা। এতে সন্দেহ হলে প্রতিবেশীদের ডাকা হয়। দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঘটনাস্থলের আলামত দেখে পুলিশ ধারণা করছে, হত্যার আগে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানো হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আলামত পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের সময় অভিযুক্তের স্ত্রী তাকে পালাতে সহায়তা করেছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় শিশুটির মা পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তখনও ভেতরে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছিল। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা জানান, রামিসা ছিল অত্যন্ত শান্ত ও প্রাণবন্ত একটি শিশু। তার এমন নির্মম মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সাধারণ মানুষ দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনাটির প্রতিটি দিক গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।