# হাম পরিস্থিতির দায় কার জানতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘স্বাধীন তদন্ত’ চাচ্ছে সরকার দেশে আশঙ্কাজনক হারে হাম রোগের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পর...
# হাম পরিস্থিতির দায় কার জানতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘স্বাধীন তদন্ত’ চাচ্ছে সরকার দেশে আশঙ্কাজনক হারে হাম রোগের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে কার গাফিলতি, কোথায় দুর্বলতা এবং কেন টিকাদান কাভারেজ কমে গেল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) কাছে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নয়, বরং সামাজিক সচেতনতার অভাব, টিকা নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারির দুর্বলতাও বর্তমান সংকটকে তীব্র করেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক পরিবার এখনো শিশুদের নিয়মিত টিকা দিতে অনীহা দেখাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাকাল পরবর্তী সময়ে অনেক এলাকায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছিল। সেই ঘাটতির প্রভাব এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, “হাম এমন একটি সংক্রামক রোগ, যেখানে একটি আক্রান্ত শিশু থেকে দ্রুত বহু শিশু আক্রান্ত হতে পারে। ফলে টিকাদানে সামান্য ঘাটতিও বড় সংকট ডেকে আনতে পারে।” সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি আন্তর্জাতিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বোঝা যাবে— * টিকাদান ব্যবস্থায় কোথায় দুর্বলতা ছিল, * স্বাস্থ্যখাতে কোনো অব্যবস্থাপনা হয়েছে কি না, * মাঠপর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম কতটা কার্যকর ছিল, * এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে, পরিস্থিতি এতটা খারাপ হওয়ার আগেই কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যখাতে সমন্বয়হীনতা ও তথ্য গোপনের প্রবণতা ছিল, যার ফল এখন সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। সংস্থাটি দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম পরিস্থিতি শুধু একটি রোগের বিস্তার নয়; এটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং জনগণের সচেতনতারও বড় পরীক্ষা। তাই সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে কার্যকর স্বাস্থ্যনীতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পদক্ষেপ এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।